[ourislambdSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ

প্রকাশঃ
অ+ অ-

১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে: ইসি


ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরের নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। আর নভেম্বরে ভোট গ্রহণ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ইসি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় জনবলসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তপশিল ঘোষণার আগেই এসব প্রস্তুতি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।

ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একসঙ্গে দেশের সব ইউনিয়নে আয়োজন করা হবে না। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ করা হবে। ফলে তপশিল ঘোষণার পর ধাপে ধাপে নির্বাচনী কার্যক্রম মাঠে গড়াবে। কোন ধাপে কতটি ইউনিয়নে ভোট হবে, তা কমিশনের সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।

নভেম্বরে ভোট শুরুর পরিকল্পনা

ইসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, আপিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের মতো আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রথম ধাপের ভোট নেওয়া হতে পারে নভেম্বরে।

তপশিল ঘোষণার আগে কমিশনের পক্ষ থেকে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ভোটকেন্দ্রের তালিকা, প্রয়োজনীয় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একটি বড় কর্মযজ্ঞ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র বিস্তৃত থাকায় কেন্দ্র নির্বাচন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

একাধিক ধাপে ভোট

কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে একদিকে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, অন্যদিকে প্রতিটি ধাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ধাপের ভোট আয়োজন করা সম্ভব হবে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনেও কয়েক ধাপে ভোট নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এসব নির্বাচনে কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছে, আবার কোথাও সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখল ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এবার এসব বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছে কমিশন।

প্রচারে থাকছে নতুন বিধিনিষেধ

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণায়ও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আচরণবিধিতে প্রার্থীদের প্রচারের ধরন ও পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মিছিল, পোস্টার, বিলবোর্ড ও নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন বিধিনিষেধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা কনটেন্ট তৈরির বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন, সরকারি সুবিধা ও যানবাহন ব্যবহারের বিষয়েও বিধিবিধান মানতে হবে প্রার্থীদের।

ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রবণতা ঠেকাতেও নজরদারি থাকবে। বিশেষ করে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও বা অডিও ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেয় করার চেষ্টা হলে তা আচরণবিধির আওতায় নেওয়া হবে।

মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি

ইউপি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ করছে কমিশন। নির্বাচনী এলাকার ভোটকেন্দ্রের তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্রের অবকাঠামো যাচাই এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুতের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের দিন ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও তৎপরতা বাড়ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন। তপশিল ঘোষণার পর এ তৎপরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ইসির বক্তব্য

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যেই প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করে নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে তপশিল ঘোষণার দিন ও ভোট গ্রহণের চূড়ান্ত সময়সূচি কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনী আমেজ ফিরবে। তপশিল ঘোষণার পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা, দলীয় হিসাব-নিকাশ এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

This theme has been developed by Muhammad Siyam.

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন